রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
রমজান মাসে রোজা রাখা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে, ইফতারির খাবার নির্বাচন যথাযথ না হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং রোজার শেষে ক্লান্তি অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ইফতারের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, যেন পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।
এখন অনেকেই রোজার শেষে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি, সোডা বা ফাস্টফুড খেয়ে থাকেন। তবে, এসব খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন—অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে তৈরি ভাজাপোড়া খাবার যেমন সমুচা, বেগুনি, পকোড়া ইত্যাদি। এসব খাবারে প্রচুর ফ্যাট থাকে, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শরীর ভারী মনে হতে পারে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের মতো জিলাপি, রসগোল্লা, পায়েস শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সাময়িকভাবে শক্তি দিতে পারে, তবে পরে ক্লান্তি ও গ্লুকোজের ঘাটতি সৃষ্টি করে।
এছাড়াও, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা, কফি ইত্যাদি ইফতারে খাওয়া পরিহার করা উচিত। এগুলো শরীর থেকে পানি বের করে দেয়, যা শরীরে পানির অভাব সৃষ্টি করে এবং ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া, গাঢ় মাংস যেমন মটন, বিফ বা প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ, হটডগ ইত্যাদি খাওয়া পরিহার করা উচিত, কারণ এসব খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবারও ইফতারে পরিহার করা উচিত। এসব খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়, যার ফলে পেটের সমস্যা এবং ক্লান্তি হতে পারে।
তবে, ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ডাল, ফল, খেজুর, দই, শাকসবজি, মাছ এবং মিষ্টি পটেটো শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধার করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক। ইফতারে এসব পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার রাখলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং রোজা শেষে শরীরে ক্লান্তি কম হবে।
অতএব, ইফতারে এমন খাবার বেছে নিন, যা শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে এবং ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক হবে। এজন্য ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, সোডিয়াম ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে আমরা সুস্থ জীবনযাপন করতে পারি।